কৃষি প্রতিবেদক ॥ শাক আলুর চাষ পদ্ধতি(শাক আলু বা মালাভি আলু নামে পরিচিত এক ধরনের কন্দ জাতীয় সবজি) বাংলাদেশের কৃষিতে ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এটি মূলত পাতার জন্য চাষ করা হয়, এবং এটি খাওয়া যায় শাক হিসেবে। এটি সাধারণ আলুর মতো মাটির নিচে কন্দ উৎপাদন করে, তবে এর পাতা অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং চাহিদাসম্পন্ন। নিচে শাক আলুর চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো: ১. মাটি ও জমি প্রস্তুতি: মাটি: শাক আলুর জন্য দোআঁশ, বেলে দোআঁশ ও জলধারক ক্ষমতা সম্পন্ন মাটি উপযোগী। পিএইচ (pH): মাটির pH ৫.৫ – ৭.৫ এর মধ্যে হলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। জমি প্রস্তুতি: জমি ২-৩ বার চাষ ও মই দিয়ে ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হবে। ২. বীজ বা রোপণ উপাদান: প্রজনন পদ্ধতি: শাক আলু সাধারণত কন্দ (টিউবার) বা লতা (vine cutting) থেকে জন্মে। বীজ রোপণ পদ্ধতি: লতার ২০-২৫ সেমি লম্বা টুকরা রোপণ করা হয়। প্রতিটি টুকরায় অন্তত ৩-৪টি গাঁট থাকা উচিত। গাঁট থেকে নতুন গাছ জন্মে। ৩. রোপণের সময়: শাক আলু রোপণের উপযুক্ত সময় ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ অথবা আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর। বর্ষাকাল ও শীতকাল উভয় সময়ই শাক আলুর চাষ করা যায়। ৪. রোপণের দূরত্ব: লাইন থেকে লাইন: ৬০ সেমি গাছ থেকে গাছ: ৩০ সেমি প্রতি হেক্টরে প্রায় ২০,০০০ – ২৫,০০০ চারা লাগানো যেতে পারে। ৫. সেচ ও নিষ্কাশন: জমিতে পানি জমে থাকলে গাছ পচে যেতে পারে, তাই নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভালো রাখতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে মাঝে মাঝে হালকা সেচ দিতে হবে। ৬. সার ব্যবস্থাপনা: সার পরিমাণ (প্রতি হেক্টরে) প্রয়োগ সময় গোবর ১০-১২ টন জমি তৈরির সময় ইউরিয়া ৮০-১০০ কেজি চারা গজানোর ২০ দিন পর টিএসপি ৭০-৮০ কেজি জমি তৈরির সময় এমওপি ৬০-৭০ কেজি ভাগ করে প্রয়োগ ৭. রোগ ও পোকা দমন: পাতা পচা রোগ: ছত্রাকনাশক যেমন রোভরাল বা কপার অক্সিক্লোরাইড স্প্রে করতে পারেন। শুঁয়োপোকা ও বিটল: কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে যেমন সেভিন বা ডায়াজিনন। নিয়মিত গাছ পরিদর্শন করে পোকামাকড় দমন করা উচিত। ৮. শাক সংগ্রহ: রোপণের ২০-২৫ দিন পর থেকেই শাক সংগ্রহ করা যায়। প্রতি গাছ থেকে ৪-৫ বার পর্যন্ত শাক সংগ্রহ করা সম্ভব। ৯. কন্দ সংগ্রহ (যদি চাহিদা থাকে): শাক আলুতে কন্দ হয়, তবে সেটা মূল উদ্দেশ্য নয়। কন্দ সংগ্রহের সময়: ৮০-৯০ দিন পর, যখন পাতা হলুদ হয়ে যায়। ১০. সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ: শাক কেটে বাজারে দ্রুত পাঠাতে হবে কারণ তা দ্রুত নষ্ট হয়। শাক আলুর শাক বাজারে জনপ্রিয় এবং ভালো দাম পাওয়া যায়। অতিরিক্ত টিপস: শাক আলু শাক উচ্চমাত্রায় আয়রন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ। গরু, ছাগল এই শাক খেতে পছন্দ করে – এটি গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। জৈব চাষ করলে বাজারে দাম বেশি পাওয়া যায়


