কুমারখালী প্রতিনিধি ॥ পবিত্র রমজান ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে কুমারখালী পৌরবাজারে জনসমাগম বাড়ছে। অথচ বাজারে প্রবেশের প্রধান সড়কটি এখন কার্যত অচল। ফুটপাতের অস্থায়ী দোকানগুলো সড়কের ওপর স্থায়ী রূপ নিয়েছে, আর লাগামহীন পাখিভ্যান ও বিভিন্ন যানবাহনের দখলে পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরবাজারের প্রধান সড়কের বড় অংশ জুড়ে দোকান বসিয়ে রাখা হয়েছে। পথচারীদের হাঁটার জায়গা নেই, যানবাহনের চলাচলের লেন কার্যত বিলুপ্ত। এর ওপর আবার শত শত পাখিভ্যান, ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সা (পান্টি–কুমারখালী রুট), ছোট–বড় মালবাহী যান এবং মাটি–বালুবাহী গাড়ির অবাধ চলাচল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। হলবাজার মোড়, গণমোড়, স্টেশন বাজার ও বাসস্ট্যান্ড—শহরের এসব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সড়কের ওপর গড়ে উঠেছে অবৈধ ভ্যানস্ট্যান্ড। সারি সারি পাখিভ্যান দাঁড়িয়ে থাকায় রাস্তার অধিকাংশ জায়গা দখল হয়ে যাচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহন একে অপরের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সংঘাতে জড়াচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভ্যানচালকদের বড় একটি অংশ কোনো নিয়ম মানতে চায় না। পথচারীদের সঙ্গে প্রতিদিনই বাগবিতণ্ডা হচ্ছে, কোথাও কোথাও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। বেপরোয়া চলাচলের কারণে শহরের ভেতরে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ চোখে পড়ছে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—বাজারের প্রধান সড়কে অতিরিক্ত পাখিভ্যানের কারণে জরুরি রোগী, অ্যাম্বুলেন্স কিংবা অগ্নিনির্বাপণ যান দ্রুত চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—এই অব্যবস্থাপনা কি প্রশাসনের চোখে পড়ে না? নাকি সবকিছু জেনেও নীরবতা পালন করা হচ্ছে? ঈদ সামনে রেখে বাজারে ভিড় আরও বাড়লে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অরাজকতায় রূপ নেবে। এ অবস্থায় অবিলম্বে কুমারখালী পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের স্পষ্ট দাবি—ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করা, নির্দিষ্ট স্থানে ভ্যানস্ট্যান্ড নির্ধারণ, ভারী ও মাটি–বালুবাহী যান চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। অন্যথায় রমজান ও ঈদের আনন্দ কুমারখালী পৌরবাসীর কাছে দুর্ভোগেই সীমাবদ্ধ থাকবে।


