বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
দৌলতপুরে কোরআন নিয়ে কটূক্তির জেরে দরবারে হামলা, কথিত পীর নিহত
/ ১৩৫ দেখা হয়েছে
বার : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৭ অপরাহ্ন

কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে কটূক্তি করে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী এক কথিত পীরের দরবার শরিফে হামলা চালিয়েছেন। বিক্ষুব্ধরা দরবারে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে সেখানকার কথিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম রেজা (৫৭) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকালে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণ এলাকায় অবস্থিত শামীমের ‘কালান্দার বাবা শ্রী শামীমজাহাঙ্গীর দরবার শরিফ’ নামে তার নিজস্ব দরবার শরিফে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় শামীমের আরো দুই অনুসারী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত আব্দুর রহমান শামীম রেজা ফিলিপনগর এলাকার সামসুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কথিত পীর শামীম রেজা তার দরবারে অনুসারীদের উদ্দেশে পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ‘কোরআন যিনি লিখেছেন তিনিও মূর্খ এবং যারা এটি পড়েন তারাও মূর্খ।’ এই বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে শনিবার দুপুরের দিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে অবস্থিত কথিত পীর শামীমের দরবার শরিফ ঘেরাও করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও একাধিক কক্ষে অগ্নিসংযোগ করেন। এ সময় দরবারের ভেতরে থাকা শামীম রেজা ও তার দুই অনুসারী এলোপাতাড়ি পিটুনির শিকার হন।
বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমসহ তিনজনকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে ৩টার দিকে কথিত পীর শামীম রেজার মৃত্যু হয়। আহত বাকি দুজন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে শামীম ইসলাম ধর্মের নাম ব্যবহার করে নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এর আগেও তিনি নিজেকে ‘বাংলার নবী’ দাবি করেন এবং গান-বাজনার উৎসব করে লাশ দাফন করাসহ তার নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। আব্দুর রহমান শামীম রেজা পবিত্র কালেমা বিকৃত করে (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ‘শামীম বাবা’ রাসুলুল্লাহ) উল্লেখ সরাসরি শিরক কর্মে লিপ্ত হন। এসব ঘটনায় পুরো উপজেলাবাসী কথিত এই পীরের বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠেন। তার ভণ্ডামি নিয়ে ইতোপূর্বে দফায় দফায় গণমাধ্যমে খবর বের হয়। বারবার ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনায় ভণ্ডপীর শামীমের শাস্তি দাবি করে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়। শামীম এর আগে সাদা চুল-দাড়ি রাখলেও ইদানীং কালো কলব ব্যবহার করে নিজের বেশভূষা পরিবর্তন করেছেন। নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, শামীম এর আগে ঢাকায় থাকতেন। তিনি ‘কালান্দার বাবা জাহাঙ্গীর সুরেশ্বরী’র অনুসারী হিসেবে পরিচয় দিতেন। ঢাকা থেকে ফিরে এসে বেশ কয়েক বছর ধরে ওই দরবারটি পরিচালনা করে আসছেন। তার কর্মকাণ্ডে এলাকার অনেকে অসন্তুষ্ট ছিল।’ তবে কারা হামলা চালিয়েছেন সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি। এদিকে এ খবর লেখা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ দরবার শরিফ এলাকা ঘিরে রাখেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দৌলতপুর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছিল। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও বর্তমানে সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ