এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চললেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বৃহস্পতিবার স্বাভাবিকের তুলনায় ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
ইরান তার জলসীমা দিয়ে জাহাজ চলাচলের কড়া নির্দেশ দেওয়ায় এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে স্থবিরতা বিরাজ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েকশ ট্যাঙ্কার ও জাহাজ পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এর ফলে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশ বন্ধ হয়ে গেছে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংকটের কারণে বৃহস্পতিবার তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। শিপ-ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করলেও গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৭টি জাহাজ পার হতে পেরেছে।
এর মধ্যে একটি তেলের ট্যাঙ্কার এবং ছয়টি বাল্ক ক্যারিয়ার ছিল। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম কেপলার ও লয়েডস লিস্টের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) লারাক দ্বীপের চারপাশের ইরানি জলসীমা ব্যবহার করে যাতায়াত করতে বলেছে। তাদের দাবি, সাধারণ পথে নৌ-মাইন থাকার ঝুঁকি এড়াতে এই বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হবে। আইআরজিসি-র নির্দেশনা অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লারাক দ্বীপের উত্তর দিক দিয়ে প্রবেশ এবং দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হতে হবে।
তবে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ‘অ্যামব্রে’ সতর্ক করেছে যে, ইরান অনুমোদিত নয় এমন জাহাজ, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এমনকি অনুমতি পাওয়া জাহাজগুলোকেও মাঝপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। টোল ও ক্রিপ্টোকারেন্সি: বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইরান প্রতিটি জাহাজ চলাচলের জন্য ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল দাবি করতে পারে। ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ইরান এই টোল ক্রিপ্টোকারেন্সিতে আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
তবে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আদায়ের কোনও বৈশ্বিক চুক্তি নেই এবং এমন পদক্ষেপ একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ তৈরি করবে। ভারতের এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘পাইন গ্যাস’ লারাক দ্বীপের বিকল্প পথ ব্যবহার করলেও তারা কোনও টোল দেয়নি বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন জাহাজের চিফ অফিসার সোহান লাল। জাপানের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি মিৎসুই ওএসকে লাইনস জানায়, তারা গত কয়েক দিনে তিনটি ট্যাঙ্কার বের করে আনতে পারলেও পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে। ওদিকে, ভারত মারাত্মক গ্যাস সংকটের মুখে পড়েছে। রান্নার গ্যাসের সরবরাহ ঠিক রাখতে দেশটি রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছে।
সংকটের মুখে ভারত নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এবং পুরোনো দুটি ইরানি জাহাজকে তাদের বন্দরে প্রবেশের বিশেষ ছাড় দিয়েছে। উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর একটি বিশেষ ছাড় দিয়েছিল যা ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ইউএএনআই-এর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে ইরানের পতাকাবাহী অন্তত ২৩টি ট্যাঙ্কার এশিয়ায় পৌঁছেছে, যা যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির সমান।


