এনএনবি : ইরান-যুক্তরাষ্ট্র দুইসপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সমর্থন দিয়ে ইসরায়েল ইরানে হামলা বন্ধ করলেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তবে লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির অংশ হিসাবে লড়াইয়ে আপাতত বিরতি দিয়েছে। বুধবার তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চল এবং লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা বন্ধ রেখেছে। হিজবুল্লাহর এক আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইসরায়েলকেও যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে হবে নতুবা তাদের পতন ঘটবে। তবে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে হামলার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরায়েলের ভাষ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতি লেবাননের হিজবুল্লাহর জন্য কার্যকর নয়। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। এতে সমর্থন জানায় ইসরায়েল। তবে তারা জানিয়ে দেয়,এই যুদ্ধবিরতি ইরানে কার্যকর হবে, লেবাননে নয়। যদিও যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহযোগিতা করা ইরান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দুইজনই বলেছিলেন, এই চুক্তির আওতায় লেবাননও রয়েছে।
তবে এই দাবি অস্বীকার করেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দক্ষিণ লেবাননে বুধবার সকালে ব্যাপক বিমান হামলা চালয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের এমন একপাক্ষিক অবস্থানের পরও লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি দিয়েছে। তবে হিজবুল্লাহ বুধবার হামলা বন্ধ রাখলেও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের সিদোন এলাকায় এদিন ভোরে আকাশপথে ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক বিমান হামলায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় আটজন নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়। লেবাননের হিজবুল্লাহ আইনপ্রণেতা ইব্রাহিম মুসাউই স্থানীয় গণমাধ্যমে বলেছেন, “শত্রু ইসরায়েল যদি যুদ্ধবিরতি মেনে না চলে তাহলে কোনও পক্ষই যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে না। “তাছাড়া, ইসরায়েলের হামলার পাল্টা জবাবও এ অঞ্চল থেকে দেওয়া হবে, তাতে জড়িত থাকবে ইরানও।” বুধবার সকালে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দক্ষিণ লেবাননের টায়ার শহরের বাসিন্দাদের জন্য নতুন করে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করে।
এতে বলা হয়, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যেতে হবে। অন্যদিকে, ইসরায়েল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, তারা লেবাননের সীমান্তের ভেতরে একটি নিরাপত্তা এলাকা (বাফার জোন) তৈরি করতে চায়। ইতোমধ্যে ইসরায়েলি সেনারা লেবাননে ঢুকেছে। এর ফলে দেশটির কিছু অংশ ইসরায়েলের দখলে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


