এনএনবি : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানে যদি কোনও উপসাগরীয় দেশ যোগ দেয়, তবে লোহিত সাগরের কৌশলগত প্রবেশপথ ‘বাব আল-মান্দেব’ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ইরান-সমর্থিত এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই হুমকি দেন। লোহিত সাগরের দক্ষিণ মুখে ইয়েমেন ও জিবুতির মাঝখানে অবস্থিত এই সরু জলপথটি সুয়েজ খালের দিকে সমুদ্রপথে যাতায়াতের প্রধান পথ। গত মাসে ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, হুতিদের এই নতুন হুমকি তা আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। হুতিদের উপ-তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ মনসুর সংবাদমাধ্যম ‘আল-মনিটর’-কে বলেন, “আমাদের একটি ধর্মীয়, নৈতিক এবং মানবিক দায়িত্ব রয়েছে যা আমাদের অলস বসে থাকতে দেয় না। ইরান ও লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন যদি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়, কিংবা কোনও উপসাগরীয় দেশ যদি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল [জায়নিস্ট] সত্তার পক্ষে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়, তবে বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিকল্পটি ইয়েমেনের হাতে রয়েছে।” এখন পর্যন্ত কোনও উপসাগরীয় দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধে যোগ দেয়নি। তবে গত মঙ্গলবার ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালি শক্তি প্রয়োগ করে খুলে দিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চাপ দিচ্ছে এবং তারা এই অভিযানে সরাসরি সামরিক সহায়তা করতেও প্রস্তুত। অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় ইরান ইতিমধ্যে তাদের ওপর বেশ কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালিকে ইরান দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইনের কর্মকর্তারা গোপনে জানিয়েছেন যে, তারা চান না ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব বা তাদের আচরণে বড় কোনও পরিবর্তন আসার আগে এই সামরিক অভিযান শেষ হোক। ইরানের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এক সপ্তাহ আগে হুতিরা এই যুদ্ধে যোগ দেয়। তারা ইসরায়েল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হুতিরা এর আগে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে গাজায় যুদ্ধের প্রতিবাদে ‘আমেরিকার মৃত্যু, ইসরায়েলের মৃত্যু’ স্লোগান নিয়ে লোহিত সাগরে ইসরায়েলমুখী জাহাজগুলোতে হামলা শুরু করেছিল। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলে হুতিরাও তাদের হামলা ও সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে দিয়েছিল। দীর্ঘ ছয় মাস তারা হামলা বন্ধ রেখেছিল। এবার তারা ইরানের সমর্থনে যুদ্ধের ময়দানে নামল। ওদিকে, বুধবারও ইরানের অন্যান্য মিত্র গোষ্ঠীগুলো যুদ্ধ অব্যাহত রেখেছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। ইরাকের ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোও সে দেশে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। উত্তর-পশ্চিম ইরাকের তাল আফার জেলায় এক হামলায় তাদের দুই যোদ্ধা নিহত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হাশদ আল-শাবি নামের একটি গোষ্ঠী। গোষ্ঠীটির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিরিয়া সীমান্তের কাছে নিনেভেহ প্রদেশে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তাদের দুই জন নিহত এবং ছয় জন আহত হয়েছে।


