বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
খামেনিকে হত্যা করলে ইতিহাস গড়বেন ট্রাম্পকে যুক্তি দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু
/ ৪৯ দেখা হয়েছে
বার : বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০২৬, ৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

এনএনবি : ইরানে যুদ্ধ শুরু করার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
এই আলাপেই নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এমন এক জটিল যুদ্ধে জড়ানোর পক্ষে চূড়ান্ত যুক্তি দেন, যার বিরুদ্ধে একসময় প্রচার চালিয়েছিলেন খোদ ট্রাম্প নিজে।
নেতানিয়াহু ফোনালাপে ট্রাম্পকে বোঝান যে, যৌথভাবে হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে সপরিবারে এবং তার সহযোগীদেরকেও একযোগে নির্মূল করার এটাই সেরা সুযোগ এবং এর মাধ্যমে ট্রাম্প ইতিহাসও গড়তে পারেন।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেতানিয়াহু জানতেন, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানের একটি নির্দিষ্ট স্থানে বৈঠকে বসবেন। ফলে তাদের ওপর ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ (কোনও দেশের শীর্ষ নেতাদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো)- চালানোর সুযোগ তৈরি হয়। ইসরায়েল সচরাচর এ ধরনের হামলা চালালেও যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহ্যগতভাবে এমন হামলা তেমন চালায় না। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর ফোনালাপ সম্পর্কে জানেন- এমন তিন ব্যক্তি জানান, নতুন গোয়েন্দা তথ্য থেকে জানা যায়, খামেনির বৈঠকটি শনিবার রাতের বদলে শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর ফোনালাপের খবর এর আগে কখনও প্রকাশিত হয়নি। নেতানিয়াহু গত কয়েক দশক ধরেই ইরানে সামরিক অভিযানের জন্য তাগাদা দিয়ে আসছিলেন। এবার তিনি অভিযান বাস্তবায়নের জন্য ট্রাম্পকে যুক্তি দিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা চালান। নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান যুক্তি ছিল প্রতিশোধ। তিনি ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দেন যে, ইরান এর আগে একাধিকবার তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে নির্বাচনি প্রচারণার সময় এক পাকিস্তানি নাগরিকের মাধ্যমে ট্রাম্পকে হত্যার যে ছক ইরান কষেছিল, তার বদলা নেওয়ার এটাই সুবর্ণ সুযোগ বলে তিনি যুক্তি দেন। মার্কিন বিচার বিভাগ ট্রাম্পকে হত্যা পরিকল্পনায় লোক নিয়োগের চেষ্টার অভিযোগে ওই পাকিস্তানি নাগরিককে অভিযুক্ত করে। মূলত ইরানের কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তেহরান ওই পরিকল্পনা করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়। আর ইরানের এই পরিকল্পনার বদলা নিতেই ট্রাম্পকে উদ্বুদ্ধ করেন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও মার্চে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, ইরানে অভিযানের পেছনে প্রতিশোধের একটি ভূমিকা ছিল। তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “ইরান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মারার চেষ্টা করেছিল, আর এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ হাসি হাসলেন।” ইতিহাস গড়ার হাতছানি : নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের আগেই ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছিলেন। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এবং কখন এই অভিযান শুরু করা হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন। এরই মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে মার্কিন সেনাবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে তাদের শক্তি বাড়চ্ছিল। এতে প্রশাসনের অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিযান শুরুর নির্দেশ দেওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। হামলার সম্ভাব্য একটি তারিখ আগেই নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি তখন বাতিল করা হয়। ট্রাম্প ইরানে হামলা শুরুর নির্দেশ দেওয়ার সময় নেতানিয়াহুর যুক্তি তাকে ঠিক কতটা প্রভাবিত করেছিল তা বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ফোনালাপটি ছিল ট্রাম্পের কাছে নেতানিয়াহুর শেষ জোরালো যুক্তি তুলে ধরার বড় সুযোগ। দুইজনের ফোনে আলোচনার বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র মনে করে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার সুযোগ ফুরিয়ে আসছে- এমন গোয়েন্দা তথ্যের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা ট্রাম্পকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল।
শেষ পর্যন্ত ২৭ ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর নির্দেশ দেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, পশ্চিমা বিশ্ব ও অনেক ইরানির কাছে দীর্ঘদিন ধরেই দেশটির শাসকেরা নিন্দিত। এই নেতাদেরকে নির্মূলে সহায়তা করলে ট্রাম্প ইতিহাস গড়তে পারেন। নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিকে হত্যা করলে সাধারণ ইরানিরা হয়ত রাস্তায় নেমে আসবে এবং ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানে ক্ষমতায় থাকা ধর্মতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ আগেই সতর্ক করেছিল যে, খামেনি মারা গেলে আরও কট্টরপন্থি কেউ ইরানের ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর যুক্তিতেই সায় দেন। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকালে ইরানে প্রথম বোমাটি আঘাত হানে এবং সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধ জানালে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলি ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার ফোনালাপের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “এই সামরিক অভিযানের লক্ষ্য- ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও এর উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা, ইরানি নৌবাহিনীকে নির্মূল করা, তাদের ছায়াগোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দেওয়ার ক্ষমতা শেষ করা এবং ইরান যাতে কখনওই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে সেটি নিশ্চিত করা।” তবে নেতানিয়াহুর কার্যালয় কিংবা জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।ওদিকে, ‘ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান যুদ্ধে টেনে এনেছে’ এমন দাবি ভিত্তিহীন বলে গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে উড়িয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। আবার ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, হামলার এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ তার একার ছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে যুদ্ধে যেতে বাধ্য করেছেন এমন ইঙ্গিত পাওয়া না গেলেও এটি স্পষ্ট যে, ইসরায়েলের এই নেতা অত্যন্ত কার্যকরভাবে নিজের দাবি তুলে ধরেছিলেন। এতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পট প্রস্তুত হয়। বিশেষ করে ট্রাম্পকে হত্যার চেষ্টার পেছনে থাকা ইরানি নেতা খামেনিকে হত্যার সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধে প্ররোচিত করার মতো যুক্তি ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ