এনএনবি : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১২ জন চিকিৎসা কর্মী নিহত হয়েছে, জানিয়েছে দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১৫ দিন আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে লেবাননে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের একমাত্র ইহুদি রাষ্ট্রটি। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে বিনত জবেইল জেলার বুর্জ কালাউইয়াহ গ্রামে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে চিকিৎসক, চিকিৎসা কর্মী ও নার্স রয়েছে, যারা ওই সময় দায়িত্বরত ছিলেন। আল জাজিরা জানায়, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর যে অভিযান চালিয়েছিল, সেখানেও তাদের বিরুদ্ধে বারবার চিকিৎসা কর্মীদের লক্ষ্যস্থল করার অভিযোগ উঠেছিল। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করে লেবাননেও একই ধরণের হামলার পুনরাবৃত্তি ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর মার্কিন, ইসরায়েলি হামলার পর ২ মার্চ থেকে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে লড়াই শুরু হয়। এরপর থেকে এ পর্যন্ত লেবাননে ৭৭৩ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন চিকিৎসাকর্মী। আল জাজিরার প্রতিনিধি হেইডি পেট বৈরুত থেকে জানান, নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। পেট বলেন, “শুধু দক্ষিণ লেবাননেই নয়, রাজধানী বৈরুতেও ইসরায়েলি বিমান হামলার ভয়াবহতা ও প্রাণঘাতী রূপ আমরা দেখছি।” লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এটি ছিল স্বাস্থ্যখাতে ইসরায়েলের দ্বিতীয় হামলা। এর আগে দক্ষিণ লেবাননের সুয়ানেহ গ্রামে একটি প্যারামেডিক সেন্টারে হামলায় দুই চিকিৎসাকর্মী নিহত ও পাঁচজন আহত হন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের তামির হারেত সাইদা এলাকায় আরেকটি বিমান হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা আক্রমণ শুক্রবার দিবাগত রাতে হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইয়া’আরা শহরে দেশটির সেনাদের লক্ষ্য করে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ দিয়ে হামলা চালিয়েছে। এটি ছিল শুক্রবার হিজবুল্লাহর ঘোষিত ২৪তম সামরিক অভিযান। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননের কফার কিলা এবং খিয়াম শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের ওপর রকেট হামলার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। শুক্রবার গভীর রাতে এক ভাষণে হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেম বলেন, তারা ইসরায়েলের সঙ্গে ‘দীর্ঘ সংঘাতের’ জন্য প্রস্তুত। তিনি একে স্রেফ কোনো সাধারণ লড়াই নয়, বরং ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন। ম্যাক্রোঁর যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব
এদিকে শনিবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, লেবাননের নেতৃত্ব ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তিনি ইসরায়েলকে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে যুদ্ধবিরতি শুরু করার আহ্বান জানান। ম্যাক্রোঁ একইসঙ্গে ইসরায়েলকে তাদের আক্রমণ বন্ধ করার এবং হিজবুল্লাহকে তাদের তৎপরতা থামানোর অনুরোধ করেন যেন লেবানন চরম বিশৃঙ্খলার মুখে না পড়ে। ইরানি ‘ক্লাস্টার মিসাইলে’ ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতি অন্যদিকে ইসরায়েলের ওপর ইরানের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার ভোরে উত্তর ইসরায়েলের আপার গ্যালিল অঞ্চলে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল ১২’ জানায়, সীমিত সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র হয় রুখে দেওয়া হয়েছে অথবা খোলা জায়গায় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার ‘কান’-এর ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কিছু যানবাহন এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আম্মান থেকে আল জাজিরার ররি চ্যাল্যান্ডস জানান, ইরানের ছোড়া ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ বা গুচ্ছ ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বিশাল এলাকা জুড়ে ছোট ছোট সাব-মিউনিশন বা ‘বোমলেট’ ছড়িয়ে দেয়। প্রতিটি বোমলেটে প্রায় ২.৫ কেজি বিস্ফোরক থাকে, যা ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম।


