এনএনবি : পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছে ইরান। ওই চুক্তি সই হলেও তা রিয়াদকে স্থায়ী নিরাপত্তা দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্ট ও জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম রেজাই। এক্সে তিনি বলেছেন, “সৌদির জনগণের জানা উচিত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগুজে চুক্তি তাদের নিরাপত্তা দেবে না। যেমনটি বছরের পর বছর ধরে আমেরিকানদের অন্ধভাবে সেবা করেও তারা কোনো নিরাপত্তা পাননি।”
সমালোচনা করে ইরানের এ কর্মকর্তা আরও বলেন, “সৌদি আরব তাদের নীতি সংশোধন করলে নিরাপত্তার জন্য অন্যদের কাছে ভিক্ষা চাইতে হবে না।” এনডিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে সৌদি আরব। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে নিরাপত্তার বন্ধন শক্তিশালী করতে মক্কায় ওই চুক্তি সই হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে। এই হামলা নিয়ে উদ্বেগে থাকা সুন্নি মুসলিম প্রধান ও মার্কিন মিত্র এই তিন দেশ নিজেদের সুরক্ষায় চুক্তি সই করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে অভিযান শুরুর পর থেকে ইরান ও এর মিত্ররা সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে আসছে। তাদের জ্বালানি চালানে অবরোধ আরোপ করছে, যা বছরের পর বছর ধরে চলা আঞ্চলিক অস্থিরতার এক বড় ধরনের বিস্তার। চুক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরব এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যেকোনো আগ্রাসী কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ জোরদার করা চুক্তির লক্ষ্য। তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র আক্রমণ হলে তা সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। যদিও বিবৃতিতে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা’ শীর্ষক এ চুক্তির অধীনে প্রত্যেকে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি বা বাধ্যবাধকতা মেনে নিয়েছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে বলা হয়েছে যে, এই চুক্তির লক্ষ্য নিজেদের সম্মিলিত নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং এ অঞ্চলে ও এর বাইরে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানো।


