এনএনবি : আজ ৫ আগস্ট, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী দুঃশাসনের পতন হয়। দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সূচনা হয় সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সহিংস দমন-পীড়নে শত শত আন্দোলনকারী নিহত হলে তা দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। সারাদেশের ছাত্র-জনতা এই আন্দোলনে যোগ দেয়, যা শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে জবাবদিহি ও পরিবর্তনের দাবিতে পরিণত হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলন চূড়ান্ত পরিণতি পায়Ñ শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি দেশ ছাড়েন, অবসান হয় পনেরো বছরের বেশি সময়ের শাসনের। অভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র-জনতার স্মরণে ২০২৫ সাল থেকে দিনটি জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস হিসেবে জাতীয় ছুটির দিন।
জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। দিবসটিতে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তথ্য অধিদপ্তরের সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এসব জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, দিবসটি উপলক্ষে সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ-সাহিত্য-সাময়িকী ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এতে জানানো হয়, ৫ আগস্ট সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলনকেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এতে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
দেশের সব জেলাতেও জুলাই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।
ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনের মিনিপোলগুলোতে জুলাই আন্দোলনের ওপর বস্তুনিষ্ঠ ও নৈর্ব্যক্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে, এফএম ও কমিউনিটি রেডিওতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে।
দিবসটি পালন উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে এবং রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলো দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করবে।
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো একই দিনে বাদ জোহর বা সুবিধাজনক সময়ে সারাদেশে বিশেষ মোনাজাত/প্রার্থনার আয়োজন করবে।
ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকাসহ বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে। জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলো আলোক সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করা হবে।
দিনটিতে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার স্বায়ত্তশাসিত জাদুঘরগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে। দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এদিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ সংগঠন কিংবা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কোনো কুচক্রী মহল যাতে নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা, টহল কার্যক্রম ও সাইবার নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে র্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
র্যাব জানায়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আলাদা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। একই সঙ্গে আগাম তথ্য সংগ্রহের জন্য গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনে ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরাও নজরদারিতে থাকবেন।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
র্যাব জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসের সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে বাহিনীটি।


