কাগজ প্রতিবেদক ॥ চব্বিশের গণঅভুত্থানে কুষ্টিয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয়া ছাত্র জনতার উপর পুলিশের নির্বিচারে চালানো গুলিতে একে একে ঝরে পরে এক কিশোরসহ ৮জনের তরতাজা প্রাণ। আহতহন অন্তত সহ¯্রাধিক ছাত্রজনতা। শরীরে শত শত স্প্রিন্টার নিয়ে এখনো যন্ত্রনায় নির্ঘুম রাত কাটাই আহত জুলাই যোদ্ধারা। আর স্বামী সন্তান আর বাবা হারানোর বেদনা নিয়ে ন্যায় বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার। বর্তমান সরকারের কাছে তাদের একটায় চাওয়া হত্যাকারীদের কঠোর শাস্তি। ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই শহরের কাস্টম মোড় এলাকায় ছাত্রদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা চালালে ছাত্রদেও প্রতিরোধের মুখে বেশ কয়েকটি মোটর সাইকেল ফেলে পালিয়ে যায় তারাা। ক্ষুব্দহয়ে মোটর সাইকেল গুলোকে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। পরের দিন ১৮ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে নিরীহ ছাত্র জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি আর টিয়ার শেল নিক্ষেপ কওে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী। ৫ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের থানা মোড়, ছয়রাস্তার মোড় পরিনত হয় রণক্ষেত্রে। এদিন পুলিশের বুলেট আর অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র লক্ষ্যবস্তু করে ছাত্র জনতার ওপর। এতে কিশোর আবদুল্লাহসহ একে একে প্রাণ যায় ৮ জনের। বর্তমানে স্বামী সন্তান আর বাবা হারানোর বেদনা নিয়ে দিন কাটা”েছন কুষ্টিয়ায় নিহত জুলাই যোদ্ধাদের পরিবার। এ ব্যাপারে কথা হয় শহীদ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তারের সাথে তিনি জানান, তার স্বামী ছিলেন পরিবারের এক মাত্র অবলম্বন। যে কোন বিপদে সকলেই তার পাশে থাকুক। তিনি চান তার স্বামী হত্যার প্রকৃত বিচার। আজ বাবা নেই তাই কোন খেলনা কিনে দেয় না। বাবা থাকলে অনেক কিছু পেত বলে জানালো ছোট্র শিশু শহীদ আশরাফুল ইসলামের মেয়ে ফারিহা তাবাসসুম ফারহা। ছেলে হারানোর বেদনা যে কি কষ্টের তা যার হারিয়েছে সেই জানে। জানান শহীদ আশরাফুল ইসলামে মাতা, তিনি জানান, ছেলের বুকটা ঝাঁঝরা হয়ে যায়। হাসপাতালে নেয়ার পর রক্তপাত হতে আমার ব্যাটা চলে যায়। আজ সরকার যদি কিছু দেয় তা হলে সংসার চলবে। আমার ব্যাটার মেয়ে-বউকে নিয়ে চলতে পারবেন। তিনি তার পুত্র হত্যার বিচার দাবী করেন। কথা হয় শহীদ বাবলু ফারাজির চেলে জন মাহমুদের সাথে তিনি জানান, আমার বাবাসহ ৭ জনকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। সেখানে মামলার চার্জশিটে পুলিশের নাম নেই। আমি জানতে চাই যে পুলিশ হত্যা করলো সে পুলিশের নাম নেই কেন। তিনি হত্যার প্রকৃত বিচার দাবী করেন।
এদিকে ৫আগস্ট থানামোড়েগুলিবিদ্ধ হয়ে শরীরে শত শত স্প্রিন্টার নিয়ে এখনো যন্ত্রনায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন আহত জুলাই যোদ্ধারা। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটলেও এই দুইবছরে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসেব মেলাতে পারছেন না বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সম্মুখ সারির এই যোদ্ধারা। কথা হয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন প্রধান সমন্বয়কারী তৌকির আহমেদের সাথে তিনি জানান, আমরা যে জুলাই আন্দোলনের মধ্যদিয়ে নতুন দিন এনেছিলাম। আমরা যে রক্ষক্ষয়ী যুদ্ধে অর্জন, তার অর্জন কি আমরা পেয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম একটি পুলিশ কমিশন গঠন করা হবে। যেখানে পুলিশের বিচার হবে। রাষ্ট্র সংস্কার হয়নি। ফলে জুলাই আন্দোলনের সকল অর্জন বৃথা চলে গেছে বলে তিনি মনে করেন।
অধিকার আদায়ের জন্য যারা প্রাণ বিসর্জন দিলো এতদিনেও তাদের হত্যার বিচার হলো না। এ বাস্তবতা মেনে নিতে শহিদ পরিবারের যেমন কস্টের শেষ নেই। তেমনি প্রকৃত বিচার না হলে চব্বিশের গণঅভুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য হারাবে। এমনটিই মনে করেন সচেতন মহল।


