বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
ইরানকে শাস্তি দিতে ‘সৃজনশীল উপায়’ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
/ ৭৫ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ন

ঢাকা অফিস ॥ ইরান যুদ্ধের এ পর্যায়ে এসে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন ও সৃজনশীল উপায়ের সন্ধান করতে শুরু করেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ পরিচালনাকারী কমান্ডের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে ইমেইল পাঠিয়েছেন। যাতে বলা হয়েছে, ‘আমাদের আইডিয়া দরকার’। ইমেইলটি পাঠানো হয় গত সপ্তাহে। এর সম্পর্কে অবগত সূত্র সিএনএনকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। ইমেইলে লেখা হয়, ‘আমরা ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি ও শাস্তি দেওয়ার জন্য সৃজনশীল এবং অপ্রচলিত উপায় খুঁজছি।’ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এভাবে আইডিয়া আহ্বান করাটা খুবই অস্বাভাবিক। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে থাকা বিকল্পগুলো কমে গেছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিমোথি হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেছেন, উদ্ভাবনী উপায়ে চিন্তা ও কাজ করার ক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক কমান্ডের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ের অভিযানিক সাফল্য অর্জনের জন্য অ্যাডমিরাল কুপার (সেন্টকমের প্রধান ব্র্যাড কুপার) দলের সদস্যদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করেন। সম্প্রতি ট্রাম্প ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দেন। ইমেইলটি এর আগে সামরিক বিশ্লেষকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল। জবাবে নতুন কোনো আইডিয়া এসেছে কি না তা জানা যায়নি। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হামলার হুমকি থেকে সরে এসেছেন। তাঁর দাবি, আঞ্চলিক সহযোগী, বিশেষ করে সৌদি আরবের কাছে থেকে অনুরোধ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত বদল করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট এখন পর্যন্ত ইরানে নতুন অভিযান শুরুর অনুমোদন দেওয়া থেকে নিজেকে বিরত রেখেছেন। তবে তিনি উত্তেজনা বাড়াতে সেনাদের স্থল অভিযানেও পাঠাতে পারেন। কিন্তু তাতে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি এবং হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাবে। যুদ্ধ তখন ‘চিরস্থায়ী’ রূপ নেবে। একটি সূত্রের মতে, ট্রাম্প ‘আতশবাজির’ মতো হামলার কথা বিবেচনা করছেন। এক বছর আগে যে স্থাপনাগুলোতে হামলা হয়েছিল, এবারও সেই একই জায়গাগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এর উদ্দেশ্য প্রতীকী বিজয় অর্জন এবং যুদ্ধ থেকে বের হয়ে যাওয়া। ট্রাম্পের নিজের বক্তব্যেও যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাকুলতা ফুটে উঠেছে। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে তাঁর কাছে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। তখন তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু জিততে চাই। আমরা তাদের এতটাই আঘাত করব, যা দেখে তারা বলবে- আর সহ্য করতে পারছি না।’
তবে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে অস্ত্রের মজুত নিয়ে খোদ পেন্টাগনের (প্রতিরক্ষা বিভাগের সদরদপ্তর) ভেতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে অত্যাধুনিক প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর এবং অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার ব্যাপারে আলোচনা হয়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন আইনপ্রণেতাদের বলেছেন, ‘বিমান শক্তিরও একটি সীমা আছে।’ এছাড়া, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) মূল্যায়নেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বোমা হামলা চালাচ্ছে, তা দিয়ে ইরানের অবস্থান বদলানোর সম্ভাবনা কম।
একটি সূত্র বলেছে, ‘দিনশেষে, প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চাইবেন। ফলে তিনি ক্রমাগত কঠোর হওয়ার এবং পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার উপায় খুঁজবেন। কিন্তু প্রচলিত বিকল্পগুলো ফুরিয়ে গেলে মাঝে মধ্যে সৃজনশীল মস্তিষ্কেরও দরকার হয়।’

 

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ