এনএনবি : বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তার সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অর্থায়ন কর্পোরেশন (ডিএফসি)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সার্জিও গোরের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
“প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ দূত সার্জিও গোরও প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেছেন যে, বাংলাদেশে ডিএফসি-এর বিনিয়োগ সহযোগিতা সম্প্রসারণে যুক্তরাষ্ট্র ইতিবাচকভাবে কাজ করবে। ঢাকায় মার্কিন বিনিয়োগকারীরা শিগগিরই একটি ইউএস ইনভেস্টর সামিট আয়োজন করতে আগ্রহী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত নিজে কাজ করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন।”
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষিয় সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে বলে জানিয়েছেন উপ প্রেস সচিব।
তার কথায়, অত্যন্ত ‘উষ্ণ ও হৃদ্যতামূলক পরিবেশে’ এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
তিনদিনের সফরে বৃহস্পতিবার ঢাকায় আসেন সার্জিও গোর। গেল সেপ্টেম্বর থেকে ভারতে রাষ্ট্রদূতের পাশাপাশি এই অঞ্চলে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা তার এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর।
শাহাদাৎ স্বাধীন বলেন, দেশ পরিচালনায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশেষ দূত সার্জিও গোর।
“তিনি (সার্জিও গোর) বলেছেন, তার (তারেক রহমান) নেতৃত্বে বাংলাদেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। এর ইঙ্গিত হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য বিদ্যমান ট্রাভেল এডভাইসরির ইতিবাচক সংশোধন করেছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে যে বাংলাদেশ এখন বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। ”
‘বিনিয়োগের আহ্বান’
উপপ্রেস সচিব বলেন, ওয়্যারহাউজিং, সয়াবিন, তুলা, গম এবং অন্যান্য কৃষিখাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেছেন, এসব খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশের বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
“এসব খাতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে বল মত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত। বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্যাক্স সিলিকা উদ্যোগের অংশীদার হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এ বিষয়ে বিশেষ দূত উদ্যোগ নেবেন বলে জানিয়েছেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণ, আগামী মাসে ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর প্রভৃতি বিষয়ে নিয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে উপ প্রেস সচিব।
‘রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে’
প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাতে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছন উপ প্রেস সচিব।
স্বাধীন বলেন, বিশেষ দূত কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তার আগের দিনের সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া এবং মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের ভূমিকার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি সরকারকে ধন্যবাদও জানিয়েছেন।
“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় বলেছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্ধেকের বেশী অংশ যুক্তরাষ্ট্রের অবদান থেকে আসে। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।”
রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত, টেকসই ও রাজনৈতিক সমাধান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেছেন সার্জিও গোর।
এই লক্ষ্যে আসিয়ান প্রতিবেশী দেশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার রেহান আসিফ আসাদ, মাহদী আমিন। এসময় ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত ছিলেন।


