বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
বড় পতনের পর বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
/ ১৪ দেখা হয়েছে
বার : মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ন

এনএনবি : মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দেয়ায় আগের দিনের বড় পতনের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত থাকায় বাজারে সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে শঙ্কা অব্যাহত রয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সেশনে ৭ শতাংশ দরপতনের পর মঙ্গলবার ফ্রন্ট-মান্থ ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১২ ডলার বা ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, আগের সেশনে ৫ শতাংশের বেশি কমার পর মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৭৭ সেন্ট বা ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ১১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বনি¤œ অবস্থান থেকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নতুন হামলা স্থগিত রাখছেন। এ ঘোষণার পরই আগের সেশনে তেলের দাম কমে যায়। হরমুজ প্রণালী উপসাগরীয় তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে হতো।
তবে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না এবং কোনো বৈঠকও নির্ধারিত হয়নি। এ পরিস্থিতিতে আইএনজির বিশ্লেষকরা এক নোটে বলেন, এখনও অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে। তাই সাম্প্রতিক বিক্রির মাত্রা কিছুটা অতিরঞ্জিত বলেই মনে হচ্ছে। অতীতেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে গেছে। তাদের মতে, ইরান যখন আলোচনা চলার বিষয়টি অস্বীকার করছে এবং চুক্তি না হলে ট্রাম্পও সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তখন নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালী নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইরানকে জলপথটি উন্মুক্ত রাখতে হবে। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, ওই দলিলে তাদের কর্তৃত্ব স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।
বার্কলেজের বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের গড় রপ্তানি দৈনিক ৪২ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। আগের সপ্তাহে এ পরিমাণ ছিল ৩২ লাখ ব্যারেল। সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য বলছে, সম্প্রতি লোহিত সাগরের এডেন উপসাগরে সৌদি পতাকাবাহী ছয়টি সুপারট্যাঙ্কার দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে তাদের পথ পরিবর্তন করেছে। এছাড়া সৌদি তেলবাহী দুটি ট্যাঙ্কার বাব এল-মানদেব প্রণালী অতিক্রম করেছে।
সপ্তাহের শুরুতে বাব এল-মানদেব ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক ছিল। তবে নিরাপত্তা ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস এজেন্সি জানায়, ওমানের আল খাসাব থেকে ২০ নটিক্যাল মাইল (৩৭ কিলোমিটার) উত্তর-পূর্বে একটি ঘটনায় একটি পণ্যবাহী জাহাজ ভিএইচএফ চ্যানেল-১৬ এর মাধ্যমে জানায়, সেটি একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণ বস্তুর আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ এখন পর্যন্ত জ্বালানি পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়নি। তবে এতে সমুদ্রপথে যাত্রার সময় বেড়েছে, বীমা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে জাহাজকে বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি বাজারে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করে রেখেছে, যা তেলের দামে বিদ্যমান অতিরিক্ত ঝুঁকিমূল্য পুরোপুরি কমে যেতে দিচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ