বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৬ পূর্বাহ্ন
ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর বিবৃতি
/ ৪৯ দেখা হয়েছে
বার : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ন

কৃষকদল নেতা সুমনের ভাই শান্ত ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর দুই ম্যানেজারকে ডেকে নিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন

 

কাগজ প্রতিবেদক ॥ কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর এলাকায় অবস্থিত ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকো এক বিবৃতি দিয়েছেন, বিবৃতিতে তারা উল্লেখ্য করেছেন, ওই এলাকায় তাদের একটি ছোট্ট গুদাম রয়েছে। মাত্র ৬ কাঠা জমির ওপর নির্মিত গুদামে তামাক রাখা হয়। এর বাইরে এ গুদামে অন্য কোন মালামাল রাখা হয় না। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ্য করা হয়, গত ২ আগষ্ট কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা আকতার গুদামে অভিযান পরিচালনা করেন। সে সময় সেখানে র‌্যাবের কর্মকর্তাসহ অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকরাও সেখানে থেকে অভিযানটি পর্যবেক্ষন করেন। এর আগে সার্স ওয়ারেন্ট না থাকলেও অভিযানিক দলটি গুদামের তালা ভেঙ্গে সেখানে প্রবেশ করে তল্লাশী কাজ পরিচালনা করেন। তবে অভিযানে গুদামে কোন প্রকার অবৈধ কোন পন্য না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত গুদাম নির্মানে লে-আউট ডিজাইন ও সাইন বোর্ড না থাকার অভিযোগে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯এর ৫১ধারা মোতাবেক ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। যা পরিশোধ করা হয়।
এ অভিযানের আগে বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কৃষকদল নেতা সমুন সরকারের ভাই শান্ত সরকার ও তার দলবল নিয়ে রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে নানাভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হবে এমন তথ্য দিয়ে তাদের সাথে সমঝোতা করে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আমাদের কোম্পানীর দুটি ট্রাকও সুজন সরকার ও তার দলবল আটক করে রাখে। এক পর্যায়ে ট্রাক ছেড়ে দিলেও কোম্পানীতে কর্মরত এনামুল হক ও কর্ণেল নামের দুই ম্যানেজারকে কৃষকদল নেতা সমুন সরকারের ভাই শান্ত সরকার ত্রিমোহনী এলাকার মাছ বাজার সংলগ্ন কৃষক দলের পার্টি অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন।
পরে ২ কোটি থেকে নামিয়ে ১ কোটি টাকা দিতেই হবে মর্মে দাবি করেন। না হলে এখানে ব্যবসা করতে দিবে না বলে হুমকি প্রদান করেন। গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে দুই ম্যানেজারকে ডেকে টাকা দাবির পর রাত ১টার পরে ০১৭১৬৯৩৮১০৭ নম্বর থেকে ন্যাশনাল টোব্যাকোর স্বত্বাধিকারী রাইসুল হকের মোবাইলে কল আসে। আমি রিসিভ না করলে কৃষকদল নেতা সুমন সরকারের ভাই শান্ত সরকারের বন্ধু মতিউর রহমান মতিন পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়ে চাঁদার পাশাপাশি সমঝোতা করার ইঙ্গিত দেয়। সুমন সরকারের ভাই শান্ত সরকার পরিচয়ে ০১৭১১-৩৯৭১৫৮ নম্বর থেকে আমাকে রিং দেয়। সারা রাতে সে বারবার তাদের সাথে বসে সমঝোতা করে নেওয়ার হুমকি দিয়ে অব্যাহত ম্যাসেজ দিতে থাকে। বিষয়টি আমি জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের জানালে তারা ক্ষুব্ধ হন। বড় নেতাদের জানিয়েও কিছু হবে না বলে ম্যাসেজে হুমকি দেওয়া হয়।
এরপর অব্যাহতভাবে পরদিন ১ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত ম্যাসেজ পাঠিয়ে আমাকে চাপে রাখেন। সমঝোতা না করলে ওই এলাকায় ব্যবসা করতে দেবে না বলে শাসানো হয়। আর বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে টিম পাঠিয়ে অভিযানের পাশাপাশি নকল ব্যান্ডরোল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয় ম্যাসেজে। ম্যাসেজে বারবার কৃষকদল নেতা সুমন সরকারের বিষয়টি ইঙ্গিত দিয়ে তার সাথে সমঝোতা করে নেওয়ার কথাও লেখেন মতিউর রহমান। এসব ম্যাসেজ আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এদিকে তাদের কথামত চাঁদা দেওয়া ও সমঝোতা না করায় হেয় করার পাশাপাশি আমার ব্যবসায়ীক ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্য মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করায় গুদামে অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। তবে অবৈধ কোন কিছু না পাওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ে ফায়দা লুটতে চাওয়া ব্যক্তিরা এখনও নানা ষড়যন্ত্র শুরু করছেন। তারা যে কোন সময় আমাকে ব্যক্তিভাবে ক্ষতি করার পাশাপাশি ব্যবসায়ীকভাবে বড় ধরনের ক্ষতিসাধন করতে পারে। এ বিষয়ে ন্যাশনাল লীফ ট্যোবাকোর পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারন ডায়েরি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার রাইসুল হক। ২ আগষ্ট রাতে করা জিডিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, আমি রাইসুল হক, জেলার একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। আমি তামাকজাত পন্যসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছি। প্রতি বছর সরকারকে ভ্যাট ও কর প্রদান করে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখছি।
বেশ কিছুদিন যাবত আমার মোবাইল নম্বরে অপরিচিত নম্বর থেকে (০১৭১১-০১০৩৯১) কল আসছে। পরবর্তিতে আমি ফোন রিসিভ না করায় (০১৭১৬-৯৩৮১০৭) নম্বর থেকে মতিউর রহমান নামের এক ব্যক্তি নিজেকে কৃষকদল নেতা সুমন সরকারের ভাই শান্ত সরকারের বন্ধু পরিচয় দিয়ে নানা ম্যাসেজ পাঠান। ম্যাসেজে আকারে ইঙ্গিতে লিখেন যে, আমি যত বড়ই প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হই না কেন, আমাদের সাথে কথা না বললে আপনার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়ীক সুনাম ক্ষুন্ন হবে। আমরা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ ও সমঝোতা না করায় উক্ত ব্যক্তিবর্গ নানাভাবে ষড়যন্ত্র করে আমার ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করছে। বিবৃতিতে বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জিডিতে অনুরোধ জানিয়েছেন রাইসুল হক।

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ