এনএনবি : মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে নতুন বাজার খুঁজছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শ্রমবাজার সম্প্রসারণে কিছু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যেমন ইউরোপের সার্বিয়া, গ্রীস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল ও রাশিয়া; দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল; এশিয়ার থাইল্যান্ড। বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় সচল করতে সরকার নিরলস কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা চলতি মাসের ৮-১১ তারিখ মালয়েশিয়া সফর করেছেন। এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের সুপারিশ অনুযায়ী প্রয়োজন সাপেক্ষে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগের কার্যক্রমও হাতে নেওয়া হয়েছে। ৫ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, তার মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান। প্রশ্নোত্তরে লিখিত জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে পেপালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে বেতন কাঠামোর আওতায় জাতীয় ক্রীড়াবিদদের জন্য ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই ভাতার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ১২৯ জন ক্রীড়াবিদকে ভাতা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ল্যাংগুয়েজ স্টুডেন্ট ভিসায় বিদ্যমান জামানতবিহীন ঋণসীমা ৩ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। জাপানগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাপ্রাপ্তির আগেই সার্টিফিকেট অব ইলিজিবেলিটির ভিত্তিতে এ ঋণ দেওয়া সহজ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু
জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যাকে বিগত নির্বাচনে এই দেশের মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে দেশকে পরিচালনা করার জন্য। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে এই দেশের মানুষের প্রতি; এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে এই বাংলাদেশের প্রতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ম্যানিফেস্টো ছিল, সেখানে যেরকম আমরা শিল্পদ্যোক্তা যারা আছেন তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষ, তারা কীভাবে ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি। আমরা বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।’ সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ এরই মধ্যে গ্রহণ করেছে। তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের কৃষক কার্ডের যে কমিটমেন্ট ছিল, সেটির কাজও আমরা পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে শুরু করেছি। এর বাইরেও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ দেখছে যে, আমাদের কমিটমেন্ট যেগুলো ছিল, নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া, সেই প্রতিশ্রুতির কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে শুরু করেছি।
তারেক রহমান বলেন, বিগত নির্বাচনের সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যেই ম্যানিফেস্টো বা যেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছিল, সেই প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে প্রত্যেকটি শ্রেণিকে আমরা কিছু না কিছু বিষয়বস্তুতে রেখেছি। তারপর আরও সংক্ষিপ্তভাবে যদি আমাদের সমগ্র ম্যানিফেস্টো ভালো করে লক্ষ্য করি, তাহলে আমরা দেখবো খেটেখাওয়া মানুষ বলতে যেই মানুষগুলোকে বোঝায়, সেটি শ্রমিক হোক, কৃষক হোক, দিনমজুর হোক, খেটেখাওয়া বিভিন্ন শ্রেণি-প্রেশার মানুষ হোক- প্রত্যেকের জন্য আমরা কিছু না কিছু রেখেছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নারী সমাজকে এম্পাওয়ার (স্বাবলম্বী) করার জন্য, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য, প্রান্তিক পর্যায়ের পরিবারগুলোতে যে নারী প্রধান আছেন, তাদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে আমরা শুরু করেছি। তিনি বলেন, খাল খননের কাজ শুরু হয়েছে। এই খাল খনন শুধু যে কৃষকদের উপকৃত করবে তাই নয়; এই খাল খনন গ্রামে বাস করা মানুষ, গঞ্জে বাস করা মানুষ, শহরে বাস করা মানুষ বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষ, সাধারণ মানুষ বলতে আমরা যাদেরকে বুঝি- প্রত্যেক শ্রেণি-পেশার মানুষ কোনো না কোনোভাবে উপকৃত হবে। তারেক রহমান আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি ছিল, আমরা দেশে পাঁচ বছরে ইনশাআল্লাহ ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবো এবং এই বৃক্ষরোপণেও বিভিন্নভাবে সমাজের খেটে খাওয়া বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে উপকৃত হবে। তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম সমাজের এমন কিছু মানুষ আছে যারা ধর্মের সঙ্গে বিশেষ করে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যাদের কাছে আমরা বিভিন্ন রকমের পরামর্শ গ্রহণ করে থাকি; সেটি মুসলমান হিসেবে মসজিদ-মাদরাসা যেগুলো আছে, তার খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন সাহেবরা; অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সেখানেও যারা ধর্মগুরু আছেন তারাও খেটে খাওয়া মানুষেরই অংশ; তাদেরও সহযোগিতা করার জন্য আমরা সরকার থেকে সম্মানের ব্যবস্থা করবো বলেছিলাম এবং সেটির কাজও শুরু করেছি। প্রধনামন্ত্রী বলেন, আমরা বলেছিলাম যে দেশে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। এই যে পেশাদার খেলোয়াড় যারা হতে চাইছে, এই মানুষগুলো কিন্তু খেটে খাওয়া যে পরিবারগুলো আছে তাদেরই পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য। কাজেই তারা খেটে খাওয়া পরিবারের সদস্য হলেও তারা যেন তাদের যে প্রফেশনটা, সেটাতে যেন তারা সঠিকভাবে গড়ে উঠতে পারে, সেজন্য আমরা তাদের সহযোগিতা করতে চেয়েছি এবং সেই কাজটিও আমরা শুরু করেছি।


