বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ০৮:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
সদ্যপ্রাপ্ত
‘হুজুর বলছিলেন মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ’ কুমারখালীতে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ জন্মজয়ন্তীতেও অবহেলিত গ্রামীণ সাংবাদিকতার পথিকৃৎ কুষ্টিয়ার কাঙাল হরিনাথ মজুমদার দিল্লির রাজপথে ক্ষোভের সুনামি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সীমা লঙ্ঘনে’ দিশেহারা মোদি সরকার কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের চেক বিতরণ করলেন প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে কবে বিদায় নেবেন মেসি লেবুর উপকারিতা ও অপকারিতা বিএনপি বিপ্লবের সন্তান: রিজভী বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি স্মরণসভা শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যেতে হবে: জুবাইদা রহমান ‘আমাদের আরও ভালো হতে হবে’, প্রথম ভাষণে বললেন নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ইরান যুদ্ধ : বিশ্বকে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির গর্তে টানছেন ট্রাম্প
/ ১০৫ দেখা হয়েছে
বার : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

এনএনবি : ইরান যুদ্ধের আগে মিত্রদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোভাব ছিল ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের পরা একটি জ্যাকেটের স্লোগানের মতো— “আমি সত্যিই পরোয়া করি না; তুমি করো?” ইরানে হামলার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন শুধু জোটকেই প্রত্যাখ্যান করেনি, তারা ১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধ কিংবা ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের মতো কূটনৈতিক বৈধতার প্রয়োজনীয়তাও অনুভব করেনি। তারা ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানে হামলা শুরু করে মিত্রদের না জানিয়েই। উদাহরণ হিসেবে ইতালি সরকারের শীর্ষস্থানীয় এক সদস্যের প্রসঙ্গ তোলা যায়, যিনি হামলা শুরুর সময়টায় দুবাই সফরে ছিলেন। ইউরোপের যেকোনো দেশের তুলনায় ইতালি মতাদর্শিক জায়গা থেকে ট্রাম্প প্রশাসনের খুবই ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তারাও ইরান যুদ্ধের বিষয়ে কিছু জানত না।
ইতালি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ওই সদস্যকে উপেক্ষা করার প্রসঙ্গ টেনে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, “সমন্বয়ের ঘাটতি কতটা ভেবে দেখুন— যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রদের একজনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘটনাস্থলেই ছিলেন, অথচ যুদ্ধ শুরুর ব্যাপারে তার কোনো ধারণাই ছিল না।” যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন লিখেছে, নয় দিনের মাথায় এসে ইরান যুদ্ধ বিশ্বকে আরও গভীরভাবে সেই ঘূর্ণিপাকে টেনে নিয়েছে, যা ট্রাম্পের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির কারণে আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল। ইরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্যদিয়ে মূলত পুরো অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের সরকারগুলো আচমকা এমন এক যুদ্ধের মুখোমুখি হয়েছে, যা তাদের নিজেদের নয় এবং অধিকাংশই রাষ্ট্রই এ যুদ্ধ চায় না।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্ররা। মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা ঝকঝকে কাচের শহরগুলোর ‘বিলাসী আয়েশ’ ভেঙে পড়েছে; বন্ধ রয়েছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের একটা বিস্তৃত পথ। এসব দেশ যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে পড়া নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধারে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশগুলোতে জ্বালানির দাম বাড়ছে, যা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশের কপালে ভাজ পড়েছে। তারা অর্থনৈতিক ক্ষতি, ইরান ভেঙে পড়লে সম্ভাব্য শরণার্থীর ঢল এবং নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। আগামীতে কী ঘটবে, সেটাও তাদের আরেকটা দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান যুদ্ধ নিয়ে কেউ বিজয়োল্লাস করছে, কেউ আবার ইরাক যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করে এই যুদ্ধের সমালোচনা করছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা বলার সময় এখনও আসেনি। সিএনএন তাদের বিশ্লেষণে লিখেছে, এই যুদ্ধের মাধ্যমে তেহরানের হুমকি দেওয়ার ক্ষমতা হয়ত ক্ষুণ্ন হবে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মিত্রদের স্বস্তি এনে দেবে। আবার মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিমান নেতা হিসেবে ট্রাম্পের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে; ইসরায়েল একটি আঞ্চলিক হুমকি থেতে থেকে মুক্তি পেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হতে পারে। কিন্তু ইরানের শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি বদলে না গেলে দেশটিতে শান্তি ফিরবে না। ট্রাম্পের এই যুদ্ধ যদি ইরানি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে তছনছ করে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে নতুন করে শরণার্থী সংকট তৈরি হবে। গভীর অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাও আছে। সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ‘শান্ত থাকছি, অপমান করছি না’ মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য ইরান যুদ্ধ নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। সেই বাস্তবতা হলো— তারা ট্রাম্পের সঙ্গেও চলতে পারে না, আবার ট্রাম্পকে ছাড়াও চলতে পারে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউরোপ ও উপসাগরীয় মিত্ররা কেন এই যুদ্ধের আঁচ পায়নি, তা বোঝা কঠিন। এই যুদ্ধ মূলত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির নতুন এক প্রকাশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজের স্বার্থে সরাসরি বল প্রয়োগ করেছে। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করাও যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের শক্তির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নীতির কথা আগেই শোনা গিয়েছিল ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলারের কণ্ঠে। গেল বছর সিএনএনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “বিশ্বের কঠিন নিয়মটা হলো, শক্তিশালী দেশগুলো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসন করতে পারে।” এই নীতি ট্রাম্পের উগ্র মেজাজ, বড় ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা, কৌশলগত পরিকল্পনায় অনীহা ও সীমাহীন ক্ষমতা প্রদর্শনেরই প্রতিচ্ছবি। হাল আমলের সবচেয়ে খামখেয়ালি প্রেসিডেন্ট এখন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রকে বিশ্বের সবচেয়ে অস্থির অনুঘটক হিসেবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন। ইউরোপীয় একজন কূটনীতিক সিএনএনকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়ানোর মূল উদ্দেশ্য হলো ‘জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা’।
তবে কেউ কেউ মনে করেন, ট্রাম্পকে সামাল দেওয়াটাও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের মধ্যেই পড়ে। ইউরোপীয় এক কূটনীতিক বলেন, “এই মুহূর্তে আমরা শান্ত থাকার চেষ্টা করছি এবং তাদের অপমান করছি না। কারণ প্রকাশ্য বিরোধিতা উল্টো ফল দিতে পারে।” ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক কর্মসূচির পরিচালক জুলিয়েন বার্নস-ডেসি বলেন, “ইউরোপীয়রা একেবারে অপ্রস্তুত একটা পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে। “প্রতিদিন তাদেরকে এমন এক মার্কিন প্রেসিডেন্টের খেয়ালখুশি নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে, যিনি ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি করছেন।” এই বিশ্লেষকের মতে, ইউরোপ একটি ‘কঠিন পরিস্থিতির’ মধ্যে পড়ে গেছে। “একদিকে তারা আন্তর্জাতিক আইন বা নিয়মভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থার কথা বলে, অন্যদিকে ট্রাম্পের সুনজরও তাদের চাই।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতি ট্রাম্প অবজ্ঞা দেখালেও নিজেদের সামরিক দুর্বলতার কারণে ইউরোপকে সব সইতে হচ্ছে। কারণ, নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী ইরানে হামলা শুরুর পর ইউরোপের নেতাদের যুদ্ধবিরোধী যে দৃঢ় অবস্থান ছিল, তা ক্রমে নমনীয় হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। হরমুজ প্রণালিতে রণতরী পাঠানোর আভাস এসেছে ফ্রান্সের তরফে। ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ উৎখাতের কথা বলছেন জার্মান চ্যান্সেলর।
ফলে ইউরোপকে চোখ বুঝে আন্তর্জাতিক আইনের সমর্থক বলতে রাজি নন হেগভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘কগিটোপ্র্যাক্সিসের’ প্রধান নির্বাহী নিকোলাস ডানগান।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের অবস্থান হলো, ‘আমরা তোমাদের পদ্ধতির সমালোচনা করব, কিন্তু তোমাদের উদ্দেশ্যকে মওকুফ করে দেব।’
“এ কারণে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর ইউরোপ যুদ্ধে জড়াবে না বলেও জড়িয়ে যাচ্ছে; প্রতিশ্রুতি না দিয়েও প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।” কিন্তু মার্কিন সামরিক বাহিনী শক্তিশালী হওয়ায় ইউরোপের এই কূটনীতি ট্রাম্প তোয়াক্কাই করছেন না। ইউরোপের সহায়তা পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে শনিবার সিবিএসকে তিনি বলেন, “আমার এতে কিছুই যায় আসে না। তাদের যা ইচ্ছা করুক।” মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের ওপর হামলায় অবাক হোয়াইট হাউজ ইরানে হামলা শুরুর পর ইউরোপ যখন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবেলার কাজে হাত দেয়, তখন উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল আরও জটিল। কুয়েত, সৌদি আরব, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইনে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইউরোপকে একটা অন্য রকম পরিস্থিতির সামনে দাঁড় করিয়ে দেয়। কারণ হামলার শিকার হওয়া কিছু দেশ ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক টাকাওয়ালা মানুষের নিরাপদ স্থান হিসেবে পরিচিত।
এসব দেশে ইরানের হামলায় ‘অবাক হওয়ার’ কথা জানায় হোয়াইট হাউজ। যদিও যুদ্ধের আগে এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেছিলেন, ইরানে হামলা হলে “এ অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা হতে পারে।” জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ মনে করেন, ইরানের জবাবটা কেমন হতে পারে, তা মার্কিন বাহিনী ঠিকঠাক অনুমান করতে পারেনি। “ট্রাম্প প্রশাসন এটা ভেবে হতাশ যে, ইরানের শাসক গোষ্ঠীকে তারা ভেনিজুয়েলার মতো দ্রুত সময়ে উৎখাত করতে পারেনি।” তিনি বলেন, “ইরানিরা দোহা বা দুবাই ধ্বংস করেনি। কিন্তু হামলা হলে পাল্টা হামলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছে।” ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্রতা কিছুটা কমেছে ঠিকই, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ইসলামী প্রজাতন্ত্র শক্তিশালী রয়ে গেছে।
শনিবার ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপ হয় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানির। সেখানে তিনি সংকট নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাড়ানোর কথা বলেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা ওমানও যুদ্ধ নিয়ে উদ্বিগ্ন। সোমবার সকালে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাদর আলবুসাইদি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্য একটি বিপজ্জনক মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।” মিত্রদের কাছে কী চায় ট্রাম্পের যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধের শেষটাও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের জন্য কাঁটায় ভরা হতে পারে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনি টিকে গেলেও তা হয়ত যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের জন্য আগের মতো হুমকি হয়ে উঠবে না। কিন্তু তাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতেও নিয়মিত সামরিক হামলার প্রয়োজন হতে পারে। ভবিষ্যতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর্পসের (আইআরজিসি) নেতৃত্বে যে সরকারই গঠন হোক, তারা দেশটির ভিন্নমত দমনকে অগ্রাধিকার দেবে। ইরানে সামাজিক ভাঙন বা বিশৃঙ্খলা হয়ত কেউই চায় না। আর সবাই এটা জানে, ট্রাম্প তার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মতোই নিজেকে যেকোনো সময় বিজয়ী ঘোষণা করে এই যুদ্ধ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। আর পরিণতি সামলানোর দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন অন্যদের ঘাড়ে। লন্ডনের কিংস কলেজের ‘ওয়ার স্টাডিজ’ বিভাগের ‘সেন্টার ফর স্টেটক্রাফট অ্যান্ড ন্যাশনাল সিকিউরিটির’ জ্যেষ্ঠ গবেষক সোফিয়া গ্যাস্টন বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত তিনটি বিষয় আশা করে। “এর মধ্যে রয়েছেÑ কৌশলগত ঐক্য; সাংস্কৃতিক ঐক্য এবং সামরিক সক্ষমতা। সামরিক সক্ষমতা দেখাতে পারলে বাকি দুটি বিষয়ে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে ছাড় মিলতে পারে।” গ্যাস্টন বলেন, “যুক্তরাজ্যের মতো একটি দেশ শক্তি-সামর্থ্যে যত বেশি বিনিয়োগ করবে, ততই যুক্তরাষ্ট্রের প্রিয় অংশীদার হয়ে উঠবে।” অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি উপসাগরীয় অঞ্চলের মনোভাব কেমন হবে, তা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ইরানের আচরণের ওপর নির্ভর করবে বলে মনে করেন মাসগ্রেভ। তিনি বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের চোখে দেখলে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিরক্ত; ইসরায়েলের ওপর ক্ষুব্ধ। কিন্তু তাদের দিকে গুলি আমেরিকা বা ইসরায়েল ছুড়ছে না, ছুড়ছে ইরান। ইরান হয়ত উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ফাটল ধরাতে চাইছে।” ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস। ছবি: রয়টার্স।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডোলিডেস ও গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস। ছবি: রয়টার্স। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, ইরানের প্রতি ক্ষোভ বাড়লে উপসাগরীয় কিছু দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ব্যাপারে আরও ইতিবাচক হতে পারে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ফক্স নিউজকে বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, এই যুদ্ধ সৌদি আরবে ‘শান্তির পথ খুলে দিতে পারে’। তবে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা আছে, ইসরায়েলের এমন দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা নিয়ে ‘বাড়তে থাকা উদ্বেগের’ কথা শুনছেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “ইসরায়েল গত আড়াই বছরে সিরিয়া, লেবানন ও গাজার কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তারা কাতারেও হামলা চালিয়েছে। আবার ইসরায়েল সরকারের কিছু কট্টরপন্থি মন্ত্রী ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদী পর্যন্ত দখলে নেওয়ার কথা বলছেন।
“তাই কিছু দেশ প্রশ্ন তুলেছে, ইরানকে সরিয়ে দিয়ে ইসরায়েলকে কি নতুন আঞ্চলিক প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পথ তৈরি করা হচ্ছে?” ট্রাম্পের স্বভাবসিদ্ধ কৌশল হলো, প্রচলিত কাঠামো ভেঙে ফেলা, তারপর গতিবিধি বুঝে নিজেকে কোনোভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের মতো সম্পর্শকাতর অঞ্চলে এই কৌশল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মিত্রদের পক্ষে এর পরিণতি অনুমান করা প্রায় অসম্ভব।
গত এপ্রিলে দ্য আটলান্টিককে ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম মেয়াদে তাকে দুটি কাজ করতে হয়েছিল— দেশ চালানো এবং টিকে থাকা। “আর দ্বিতীয় মেয়াদে আমি দেশ ও বিশ্ব, দুটোই চালাব।”

আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও সংবাদ
ফেসবুক পেজ